সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

অবাক পৃথিবী (1B)

মা ঘরে নিয়ে গিয়ে পিকলুকে একটা ফানেলের জামা আর হাফ হাত সোয়েটার পরিয়ে দিল। মা কে আজ একদম ভালো লাগছে না, কিন্তু সেটা বোঝাবার সাহস নেই।  দিদিকে দলে পাওয়া যাবে না এসব ব্যাপারে।  লড়াইটা তার একার।    পিকলু আবার বারান্দায় এসে দাঁড়ালো। অনেক মানুষই ক্ষুদিরামদের বাড়ির কোণে হারিয়ে যাচ্ছে। সেখান থেকে নাক বরাবর গেলে বিলুদাদের ঘর। একটু এগিয়ে ঢাল বেয়ে নামলেই খাল।  বারান্দা থেকে দেখা যাচ্ছে সামনের শিবমন্দিরের চাতালে কয়েকজন বন্ধু বসে।  একবার ডেকে কথা বলতে ইচ্ছে করল, কিন্তু মা নিশ্চয় খুশি হবে না তাতে।  ক্ষুদিকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না,  সে নিশ্চয় ভোর থেকেই খালপাড়ে। পিকলুর বন্ধুদের যেখানে খুশি যেতে কোনো বাধা নেই, কেবল তার বেলাতেই সীমানা নির্দিষ্ট করে দেয়া। পিকলুর দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে দুঃখে।  সে আজকে লুচি খাবে না। অংকের খাতায় কাটাকুটি খেলবে, ইস্কুলের বই মিকি মাউসের স্টিকার লাগিয়ে নষ্ট করে দেবে। মা চেষ্টা করেও তাকে বর্ণপরিচয় থেকে কঠিন বানান লেখাতে পারবে না। বাবা হাতের লেখা দিলে খুব তাড়াতাড়ি লিখে পাতা ভরিয়ে ফেলবে আজ।  পিকলু মাথা গোঁজ করে ঠাকুমাদের ঘরের দিকে...

অবাক পৃথিবী 1st chapter (1A)

অবাক পৃথিবী  ঘুম ভেঙে গেছে, অথচ বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করছে না।  আজ রবিবার। ইচ্ছে করলেই সারাদিন ঘুমিয়েই কাটিয়ে দেয়া যায়, কেউ কিচ্ছু বলবে না।  বড়জোর মা ঘরের পর্দাগুলো সরিয়ে আলো করে দেবে চতুর্দিক।  তা করুক, লেপের মধ্যে কায়দা করে মাথাটা ঢুকিয়ে শ্বাস নেয়ার মত একটা ফাঁক রাখলেই হবে।  শীতের সকালে লেপের এই ওম ত্যাগ করার মত মূর্খামি আর হয় না।   ঘুমটা পুরোপুরি ভাঙার আগে থেকেই পিকলুর কানে ভেসে আসছে অনেক মানুষের দ্রুত চলার শব্দ।  লোকেরা ছোট ছোট দল বানিয়ে হন্তদন্ত হয়ে যাচ্ছে কোথাও। যেন কোনো রাজামশাই তাদের খুব জরুরি একটা কাজে তলব দিয়েছে। তাড়াতাড়ি না এলেই ঘচাৎ করে মুন্ডু উড়ে যাবে। তারা উত্তেজিত ভাবে অনেক কথা একসাথে বলার চেষ্টা করছে।  বিষয়বস্তু বুঝে উঠতে পারেনি এখনো পিকলু, শব্দগুলো তার ঠিক চেনা ঠেকছে না কানে।    তাদের এক কামরার ঘরটা একেবারেই রাস্তার গা ঘেঁষা। পিকলু জানালার দিকে মাথা রেখে শোয়।  জানালা বন্ধ থাকলেও রাস্তার লোকেদের কথা শোনা যায়। ঠাকুমা ছাড়া আর কাউকে রহস্যটা ফাঁস করেনি এখনো সে, তাদের জানালাটা আসলে একটা রেডিও।  কান পেতে থাকলে...

বাপিদা

  আর কিচ্ছু ভালো লাগছে না। বাপিদাও চলে গেলো। আমায় অকৃত্তিম ভালোবাসতো বাপিদা, সেই ছোট্টবেলা থেকে আমায় নিয়ে তার গর্ব, অথচ আমি নিজেও জানতাম না গর্ব করার মত এমন কি করলাম? মাধ্যমিক পরীক্ষাটাও তো দিই নি তখনো, আমাকে এতো কেন ভালোবাসে মানুষটা? কিছুতেই বুঝি নি। আর বোঝার অবকাশ রইলো না। পাড়ার অনুষ্ঠানে নাটক করতে হবে। বাপিদা বললো একটা নাটক লিখে ফেল, ডিরেকশন দিয়ে দে। বাপিদা নিজের হাতে সবাইকে মেকআপ করিয়ে দিলো, ছুটে ছুটে নাটকের সব জিনিসপত্র জোগাড় করে দিল। ক্লাবের বড়োদের বলে দিল সবরকম ভাবে সাহায্য করে দিতে। শুরু হলো আমার গ্রুপ "প্রয়াস" । একনিষ্ঠ বামকর্মী ছিল বাপিদা। এই তো সেদিন, সেপ্টেম্বর নাগাদ বোধয়, বামেদের সমালোচনা করে একটা ছোট্ট লেখা লিখলাম। বাপিদা ভূয়সী প্রশংসা করলো, বললো বেশ করেছিস লিখেছিস। তোর যেটা ঠিক লেগেছে সেটা লিখেছিস। আমি মানতে নাও পারি, কিন্তু তোর লেখাটা বেড়ে হয়েছে। এবার বাড়ি গিয়ে বাপিদার অফিস ঘরের খোলা দরজাটা পেরোতে পারবো তো? কোন্নগর গিয়ে বাপিদাকে আগে হাজিরা দিয়ে আসতাম। ফেরার সময় "আসছি বাপিদা, কাল ভোরবেলা ফ্লাইট" বলে আসতাম। বাপিদা হেসে বলতো, "বাবু, আর ফিরবি না এখা...

চোখ মুছে ফেলো

চারিদিকে মৃত্যুমিছিল দেখে হাফিয়ে উঠেছি, এখন আর ভয় করে না, শুধু ক্লান্তি জাগে মনে সারি সারি মৃতদেহ পাশাপাশি শুয়ে চিতায় একসাথে আগুন, সিঁকে বেঁধা মাংসের মত প্রধান মন্ত্রী, গৃহ মন্ত্রী, মুখ্য মন্ত্রী সোল্লাসে সভা করে বাম মেলায় হাত চরম ধার্মিকের সাথে হা হাহা হাসিটাই ঝুলে থাকে হাওয়ায় শেষমেশ চারিদিকে মৃত্যুমিছিল, কান্নার অবসান হয়েছে সে কবে © ঘেঁটুফুল

করোনার দূর্গা

আজকে বিজয়া দশমী।  আর কিছুক্ষন বাদেই আমাদের  ঠাকুর বিসর্জন হবে।  অথচ আমার মধ্যে কোনো উত্তেজনা নেই।  এ বড় অদ্ভুত এক পুজো দেখলাম। করোনা পরবর্তী জগৎ কেমন হবে জানা নেই, তবে অনেক কিছুই উল্টে পাল্টে যাবে বলেই আমার বিশ্বাস।  'কেবল' টিভি আসার পর যেমন জীবন বদলে গেলো সবার। এখনকার নিরিখে কি সামান্য এক ব্যাপার, অথচ আমাদের মধ্যে উত্তেজনা প্রবল।  ইস্কুলের ক্লাসে বসে আমরা একে অপরকে টেক্কা দিয়ে গুল মারতাম।  কোন্নগর এ কেবল আসেনি, কিন্তু গয়া তে আমার মামার বাড়িতে কেবল টিভি। সেখানে নাকি মাঝে মধ্যেই মাইকেল জ্যাকসনের নাচ দেখা যায়।  আমিও নাকি মামার বাড়ি গেলেই সারাদিন খালি জ্যাকসনের নাচ দেখি।   এবার পুজোটা অনেকটাই ম্রিয়মান। লোকের কাছে টাকা নেই, রোগাক্রান্ত হবার ভয়। অথচ কোথায় যেন বাঙালি বেশ অকুতোভয়।  সেটা পরিণতি অনুধাবন করার ক্ষমতা নেই বলে, নাকি বাঙালি অদৃষ্টবাদী সেটা বিশেষ বোঝা যায় না।  এমন হতে পারে, এখানে বোধয় করোনা সত্যি তেমন একটা কিছু ক...

এইবারের ফিজিক্স নোবেল

এইবারের ফিজিক্স এ নোবেল আমাকে মনে মনে খুশি করেছে।  ফিজিক্স এর কিছুই বুঝি না, তবে এখন বিজ্ঞানভিত্তিক অনেক ভালো ভালো ডকুমেন্টারী বানানো হয় ইউটুবে বা  অন্যান্য মাধ্যমে।  সেগুলো দেখে মহাকাশ সম্বন্ধে অনেক কিছুই জানা যায়।  আন্দ্রেয়া গেজ তো রীতিমত  মহাকাশের সব ডকুমেন্টারিগুলোতে নিয়মিত দেখা দেন।  রেইনহার্ড গেনজিল কে বোধয় দেখিনি এখনো, উনি  জার্মান , খুব বেশি ইংরেজি ডকুমেন্টারিতে আসেন না মনে হয়।  তবে উনি বোধ হয় আন্দ্রেয়ার সহকর্মী, একই বিষয়ে তারা নোবেল পুরস্কারটি ভাগ করে নিয়েছেন।  আমাদের গ্যালাক্সির মাঝখানে যে এক অতিকায় কৃষ্ণগহ্বর আছে, এটাই ওনারা আবিষ্কার করেছেন।   রজার পেনরোস সম্বন্ধে আমার পড়াশোনাটা প্রায় নেই বললেই চলে।  উনি এবারের নোবেলের অর্ধেকটা একাই নিয়েছেন।  আসলে ওনার কাজটা পুরোপুরি অঙ্কভিত্তিক, সেটা বোধয় মহাকাশ ডকুমেন্টারিগুলোতে দেখানো মুশকিল। বরঞ্চ এইটা বলা যায় যে, ওনার কাজটার ভিত্তিতেই আজকের সব ডকুমেন্টারী তৈরী হয়।  ...

সব বদলে যাবে

করোনা ভাইরাস পরবর্তী জীবন কেমন হবে জানা নেই, তবে মনে হয় না তড়িঘড়ি খুব একটা ফের বদল কিছু ঘটবে। মানুষ আবার বাজার দোকানে ভিড় করবে, লোকেরা আবার তাদের বড়  বড়  গাড়ি নিয়ে রাস্তা দখল করে চলবে। মানুষ আবার লাখে লাখে ডিজেল গাড়ী কিনবে। হওয়াতে বিষের পরিমান আবার বাড়বে। অনেকেই হয়তো বলবেন সাধারণ মানুষের দোষ কোথায়, সরকার থেকেই তো যথেষ্ট পরিবেশ সচেতনতা দেখানো হয়নি। একটা দেশের সরকার যা করে, নাগরিক তার পালন করে, এটাই নিয়ম। তাহলে তর্ক উঠতেই পারে যে সরকার কি ভিন্ন একটি প্রাণী, তাদেরকে তো মানুষই নিয়ে এসেছে, কাজেই তারা মানুষের থেকে আলাদা ভাববে কি করে।  আমার ব্যক্তিগত অভিমত, মানুষ যতক্ষণ না নিজে বদলায়, ততক্ষন কোনো সরকার বদলাতে পারে না। সেটা বিদেশে গিয়ে আমার দিব্বি উপলব্ধি হয়েছে। পাশ্চাত্যে সরকার এমনি এমনি নিজের মানুষদের নিয়ে এতো চিন্তিত নয়, তার বড় একটা কারণ মানুষ সেখানে জীবন নিয়ে আশাবাদী, এবং নিজের জীবনটাকে কি করে আরো  সুন্দর,আরো সচ্ছল এবং সহজ করা যায়, তা নিয়ে রীতিমতো ভাবনা চিন্তা করে।  ব্যক্তি ...

বেশি ভাবিয়া লাভ নাই

অনেক চেষ্টা করে দেখলাম, আমি বড়দের খুব একটা বুঝতে পারিনা। তাই ভাবছি বোঝার চেষ্টাও করবো না। আমার লেখাটা অনেকদিন ধরে আটকে আছে, তার একটাই কারণ, আমি এক নারী চরিত্র নিয়ে লেখার চেষ্টা করেছিলাম, পারলাম না, আটকে গেলাম।  বরঞ্চ যতক্ষণ পিকলুর পিঠে চেপে চলছিলাম, ততক্ষন দিব্বি চলছিল ব্যাপারটা। প্রায় মাসখানেকের ওপর আটকে বুঝতে পেরেছি আমাকে সবকিছুই বলতে হবে, কিন্তু একটা ছোট ছেলের চোখ থেকে। অন্যকে বেশি বুঝে লাভ নেই, খালি নিজের অনুভুতিটা লিখতে পারলেই অনেক কিছু করা হয়ে যেতে পারে। আমাকে একবার ইয়ান বলেছিলেন পার্সোনাল ইস ইউনিভার্সাল।  আমি সেটাই মেনে চলবো এবার থেকে।   যাক, একটা চিন্তা কমলো, এবার বোধয় আবার এগোনো যাবে।  

ছুটি ছুটি ছুটি

আজকে একটা নতুন কথা শিখলাম। ছুটি। এমন একটা দিন যেদিন দাঁত মেজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়তে হয়, দিকবিদিক না দেখে, বাড়ির কোনো দায়িত্ব পালন না করে।  যেদিকে দু চোখ যায়, ধেই ধেই নাচা যায়, এমন একটা দিন হলো ছুটি।  সত্যি বলতে কি,  জন্মে শুনিনি এমন কথা।  এখন শুনতে হচ্ছে বৌয়ের কাছে। আমি রোজ কাজে যাই, অনেক বাইরে বেরোবার জায়গা, প্রচুর বন্ধুবান্ধবদের সাথে মেলামেশা যায়, আড্ডা ঠাট্টা হয়, ভারী মজা করি, একটু আধটু কাজের নামে প্রহসন করার ফাঁকে।  আরে  ভাই, কাজটাও তো ছুটিরই অঙ্গ।  কিন্তু আমার বৌ বেচারি সারাদিন ঘরের কাজ করে করে, এই জেলখানায় বন্দি থেকে দিনে দিনে মারা যাচ্ছে।  কাজেই তার ছুটি চাই।  রোববার করে তাই সে ঘুম থেকে উঠেই দাঁত মেজে বেরিয়ে পরবে তার ছুটির মজা লুটতে। আমি সেদিন তার ঘরের সব কাজ করে দেব, বিছানা তোলা থেকে রান্না করে বাসন মজা সব।  একদিন নাহয় আমায় কাজ করতে হবে, বাকি ছয়দিন তো আমার ছুটি ছুটি ছুটি।  কি মজা না! বিয়ে করলে কত কিছুই না জানা যায়।  সাধে কি আর মুনী ঋষিরা বলে গেছেন, নিজেকে যদি তিস মার্ খান ভেবে থাকো, তাহলে বৌয়ের ফিডব্যাক টা ন...

ভান

প্রতি সপ্তাহে একটা মজার ব্যাপার হয় আমাদের অফিসে। সব রিপোর্টাররা পরের সপ্তাহে কি সংবাদ লিখবে, সেটা নিয়ে বসেদের সাথে প্রচুর আলোচনা করে। এক এক জন রিপোর্টারের কাহিনী নিয়ে বাকি রিপোর্টাররা প্রভূত তর্কবিতর্ক করে। জ্ঞানের আদানপ্রদান হয়। প্রতিটি পয়েন্ট সুন্দর হস্তাক্ষরে, দামি ডায়েরিতে লিখে রাখা হয়।  তারপর সেগুলোকে টাইপ করে, দিল্লিতে প্রধান সম্পাদককে পাঠিয়ে সেগুলো নিয়ে আরেক দফা চিন্তন মনন বৈঠক হয়।  তার পরের দিন, শনিবার, ঘর থেকে কাজ। রোববার পেরিয়ে সোমবার আসতে আসতে আমরা সবাই বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়ি, প্রচুর ঘোরাঘুরি থাকে তো সমুদ্রের ধারে বা পাহাড় চুড়ায়। তেল কৈ, বা রেয়াজি মাটন টাও হজম করা কি কম ঝক্কির ব্যাপার।  সোম, মঙ্গল, বুধ ... বিস্সুদ অবধি আসতে আসতে মন এবং মাথাটা কচলানো লেবুর মতো বিস্বাদ হয়ে যায়। শুক্কুরবার সকাল থেকে দিমাগকে বেশ কষ্ট দিতে হয়, অনেক পিঁয়াজি ভাজতে হয় মিটিংয়ে কি বলতে হবে সেটা ভাবার জন্য। পরের সপ্তাহের লিস্টে তো আর মমতাদির 'ক্যা ক্যা ছি ছি' দেয়া যায় না।  বেলা একটা বাজতেই আরেক রাউন্ড হৈ হট্টগোল। আমাদের সাহেব খুশি, তার সাহেবও খুশি হবে। খুশি খুশি সপ্তাহান্ত...

জবাবদিহি

আমি হিন্দু, ভগবানে বিশ্বাসী, রোজ কালী ঠাকুরের কাছে মাথা নত করি, ভয়ে নয়, ভালোবেসে। এবং ঠিক সেই কারণেই, পুরোপুরি কমুনিস্ট হয়ে উঠতে পারিনি কোনোদিন।  কমিউনিস্টদের প্রথম শর্ত হলো ভগবানে বিশ্বাসী হলে এখানে তোমার ঠাঁই নেই।  তা বেশ, আমি না হয় ব্রাত্য হয়েই থাকবো, আমি নাহয় সারাজীবন তোমাদের সভার গন্ডি পেরিয়ে অনেক দূরে বসে তোমাদের কথা শুনবো। কিন্তু শুনবো, কারণ তোমাদের কথা আমার সত্যি বলে মনে হয়।  আমি সেই হিসাবে কমিউনিস্ট, সে তোমরা আমায় স্বীকার করো, বা না করো।  মা কালী আমার হৃদয়ে বিরাজমান থাকুক, তোমরা  আমার  মাথায় থাকো।   আমি সাংবাদিক, চেষ্টা করি এপলিটিক্যাল থাকার। কারণ সেটাই আমার স্বধর্ম। যেখানে অন্যায় হবে, তার প্রতিবাদ করা আমার স্বধর্ম।  যেহেতু আমি ফিনান্সিয়াল সাংবাদিক, আমি আমার মতো করে প্রতিবাদ করি।  আমার লেখায় আমি আমার পাঠকদের কাছে তুলে ধরি সরকারি অক্ষমতাগুলো। আবার যেটা ভালো, সেটাকেও আমি প্রশংসা করি। আমার কেরিয়ারের শুরুতে আমায় যেটা শিখিয়েছিলেন আমার সিনিয়াররা, আমি সেটাই অনুসরণ করে এসেছি, সেটাই করবো। এবং আমার কাছ থেকে কোনো নবীন সাংবাদিক যদি জানত...

একদিন

একদিন হঠাৎ করে চলে যাবো জেনো শিশির যেমন মিলায় ভোর রাতে বাঁচবে তুমি নিজের মতন করে নতুন খেলায় উঠবে তখন মেতে ভাববে আগেই গেলাম না কেন যেদিন আঘাত পেয়ে নরম হবে মন তখন তুমি মূর্তি গড়ার এঁটেল মাটির জন আঘাত দিতে বাজবে তখন ব্যাথা সেদিন তুমি শুনবে তারার কথা আমার কণ্ঠ পাও যদি তার মাঝে চোখের কোণ জমবে উষ্ণ সাঁঝে জানবে সেদিন আঘাত পেয়েও হাসে কেন কেউ কেউ বার বার ভালোবাসে সেদিন তুমি খুঁজবে আমায় খুব বুকভরা অভিমানে নির্বাক নিশ্চুপ মনটা অচল সেই কথাটিই ভেবে কেই বা তোমার আঘাত খুঁজে নেবে সেদিন হালকা হাওয়ায় আলতো ছোবো নিজে জানি, আঘাত করেই ভালোবেসেছ যে 

গোধূলির মুহূর্তগুলো

আমার সাংবাদিকতার আর কটা দিন মাত্র বাকি। সমস্ত জায়গা থেকে সাংবাদিকদের চাকরি যাচ্ছে, খবরের কাগজের অবস্থা খুব শোচনীয়। এরকমটি ভাবি নি। ভেবেছিলাম, সাংবাদিকতা করেই জীবন কেটে যাবে। মাঝখানে এসে যে রাস্তা বদল করতে হবে, তা জানলে হয়তো .... অবশ্য কি বা আর করতাম, লেখা লেখি ছাড়া তো আর কিছুই জানি না। জানতে ইচ্ছেও জাগে নি কোনোদিন, জানার তাই চেষ্টাও করিনি। এখন যখন সংসারপাতি পেতে বসেছি, এই দিশাবদল অনেকটাই দিশেহারা করে দিচ্ছে। মাঝে মধ্যে এখন পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ে। আমি চাকরি করতে চলে যাচ্ছি সুদূর শিলংয়ে, পীঠে একটা ক্যানভাসের বেডিং, মোটা চামড়ার বেল্ট দিয়ে বাঁধা। পেছনে গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে মা আর বোন। ছলছল চোখ তাদের। মা ভীষণ কেঁদেছে তার আগে, আমিও একটু কেঁদেছি। সেটা মাকে ছাড়ার দুঃখে, নাকি মাকে দেখিয়ে অভিনয়, নাকি নতুন জীবনের অনিশ্চয়তার ভয়ে, সেটা আজ আর ঠিক মনে নেই। শুধু মনে আছে, আমি পিছন ফিরে তাদের দিকে তাকাই নি। সাইকেল রিকশা আমায় নিয়ে মন্থর গতিতে গড়িয়ে চললো বড় শিবমন্দির পার করে কোননগর স্টেশনের দিকে। আমি ভেসে পড়লাম।  অনেক পরে এটা নিয়ে একটু অতিরঞ্জিত একটা কিছু লিখেছিলাম আমার ব্লগে। The bo...

আমার ওয়াশিংটন যাত্রা -- ১

এপ্রিল মাসের সাত তারিখে আমি আমার নতুন কেনা সুটকেস নিয়ে মুম্বাই এয়ারপোর্টের দিকে রওনা হলাম।  প্রথম বার বিদেশের মাটিতে পা রাখবো। তাও আবার ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা। মনের মধ্যে একটা ঢিপঢিপানি যে ছিলনা তা বলবো না, কিন্তু আমি খুব একটা বেশি কিছু উত্তেজিতও ছিলাম না।  আমার সারা জীবন ধরে, আমার প্রতিটি মুহূর্ত জুড়ে আছে এখন আমার মেয়ে। তাকে ছেড়ে সাত দিন থাকতে হবে ভেবে ঠিক শান্তি পাচ্ছিলাম না। আরও মনে হচ্ছিলো, মেয়েটা আমাকে ছেড়ে  থাকবে  কি করে ।  আমার ভুঁড়ির ওপর পা তুলে তবেই তার ঘুম।  রাত্তিরে জেগে থাকে আমার অফিস থেকে ফেরার পথের দিকে তাকিয়ে।  অবশ্য ওর খারাব থাকার কথা নয়, ওর মা তো আছেই, সাথে আছে ওর পুয়া, মানে আমার মা, আমি যাবার প্রথম দুদিন আমার বাবাও থাকবেন ।  ওনারা কোন্নগর থেকে এসেছেন আমাদের সাথে দিন কাটাবে বলে আর তার সাথে আমার অনুপস্থিতে আমার পরিবারের সাথে থাকতে।   তবু, স্বার্থপরের মতো ভাবতে ভালো লাগে আমি না থাকলে মেয়ের খুব কষ্ট হবে।   আমি সাংবাদিক, সামান্য মাইনেতে  মুম্বাই তে ঘর করে উঠতে পারিনি, অনেক দূরে ডম্বিভ্লি নামক...