আমার পঁয়তাল্লিশ পেরিয়েছে। দৌড়ে দৌড়েই কেটে গেল প্রায়। কিছু না বুঝেই দৌড়েছি এতদিন। এখনও দৌড়চ্ছি, কিন্তু বোধবুদ্ধি তীক্ষ্ণ হয়েছে। আসলে বুদ্ধি ভোঁতা হয়েছে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে, তাই বোধশক্তি প্রকাশ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ততই বেশি। এখন তাই দৌড়ালেও, গতি শ্লথ করে এনেছি সচেতনভাবেই। এখন থেকে দৌড়াদৌড়ি বন্ধ। সমস্ত বুদ্ধি খরচ করতে হবে আরাম কীভাবে ম্যাক্সিমাইজ করা যায়, তার ফন্দিফিকির করে। আরামের দিকে নজর দেওয়াই হোক জীবনের চরম লক্ষ্য। দৌড়ে কোনও লাভ হয় না। চুপ করে বসে থাকলে বরঞ্চ লোকেরা ভরসা পায়, নিজের থেকেই এসে ভিড় করে। হাওড়া ব্রিজে চুপ করে বসে থাকা জ্যোতিষীকে ঘিরে যেমন মানুষের ভিড় হয়, তেমনই। তুমি যদি হঠাৎ বসে পড়ো, তাহলে যারা তোমার সঙ্গে দৌড়াচ্ছে, তোমায় টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তোমাকে ল্যাং মারার জন্য প্রাণ বাজি রেখেছে, তারা বেশ হতাশ হয়ে পড়ে। কিছুটা ভয়ও পেয়ে যায়। চুপ করে বসে থাকা মানুষকে কিছুতেই কেউ চুপ বসতে দেবে না। ধুর, আমি খেলা থেকে ড্রপ-আউট করলাম। আজ থেকে শুধুই আরাম করব। প্রায়োরিটি বদলে গেছে। নাম, যশ, পদ-প্রতিপত্তি কিছুই চাই না। আরামের দিকে নজর দেওয়াই হোক জীবনে...
আমার লেখালেখি করার কথা নয়, কেউ সেটা পড়বে তারও কোনো আশা নেই। কাউকে পড়াতেও চাই না, হাবিজাবি সব কিছু। কী হবে, আমার লেখায় তেমন কিছু পাওয়ার নয়। তবে লিখতে ভালো লাগে। এভাবে নিজের সঙ্গে কথা বলা যায়। যারা সেটা বুঝতে পারে, তারা লেখে। লেখক কি কেবল পাঠকের কথা ভেবে লেখে? না। লেখক বেশিরভাগ সময়েই নিজের সঙ্গে কথা বলার জন্যই লেখালেখি করে। কোথাও একটা পড়েছিলাম, লেখক একটা ভালো বই পড়ার জন্য লেখে। কথাটার অর্থ, লেখক আসলে লেখক হওয়ার থেকেও বেশি খুশি পাঠক হয়ে। সব লেখকই পাঠক। একটা ভালো বই পড়ার ইচ্ছে সবার মধ্যেই থাকে। সে বইকে হাতে করে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর কামনা, যেমন আমি করতাম ছোটবেলায় শিবরাম চক্রবর্তীর বই হাতে নিয়ে, তা সবার মধ্যেই থাকে। মানুষ মাত্রই আত্মার রসদ জোগাতে ব্যস্ত। সেটার জন্য তাকে নিজেই কলম তুলে নিতে হয় হাতে। নিজের মতো একটা গল্প পড়ব বলেই আমার উপন্যাসটা শুরু করেছিলাম, কিন্তু কিছুতেই শেষ করতে পারছি না। লিখছি প্রচুর, কিন্তু গল্পটি আর লেখা হচ্ছে না। তার কারণ কী আমি জানি না। হয়তো কিছু লিখতে গেলে প্রচুর বুদ্ধি লাগে, একাগ্রতার প্রয়োজন হয়, ও ইমোশনাল ইনভেস্টমেন্ট লাগে। সেটা জোগাড় করা কঠিন একটি ব্যাপার। ...