অবাক পৃথিবী ঘুম ভেঙে গেছে, অথচ বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করছে না। আজ রবিবার। ইচ্ছে করলেই সারাদিন ঘুমিয়েই কাটিয়ে দেয়া যায়, কেউ কিচ্ছু বলবে না। বড়জোর মা ঘরের পর্দাগুলো সরিয়ে আলো করে দেবে চতুর্দিক। তা করুক, লেপের মধ্যে কায়দা করে মাথাটা ঢুকিয়ে শ্বাস নেয়ার মত একটা ফাঁক রাখলেই হবে। শীতের সকালে লেপের এই ওম ত্যাগ করার মত মূর্খামি আর হয় না। ঘুমটা পুরোপুরি ভাঙার আগে থেকেই পিকলুর কানে ভেসে আসছে অনেক মানুষের দ্রুত চলার শব্দ। লোকেরা ছোট ছোট দল বানিয়ে হন্তদন্ত হয়ে যাচ্ছে কোথাও। যেন কোনো রাজামশাই তাদের খুব জরুরি একটা কাজে তলব দিয়েছে। তাড়াতাড়ি না এলেই ঘচাৎ করে মুন্ডু উড়ে যাবে। তারা উত্তেজিত ভাবে অনেক কথা একসাথে বলার চেষ্টা করছে। বিষয়বস্তু বুঝে উঠতে পারেনি এখনো পিকলু, শব্দগুলো তার ঠিক চেনা ঠেকছে না কানে। তাদের এক কামরার ঘরটা একেবারেই রাস্তার গা ঘেঁষা। পিকলু জানালার দিকে মাথা রেখে শোয়। জানালা বন্ধ থাকলেও রাস্তার লোকেদের কথা শোনা যায়। ঠাকুমা ছাড়া আর কাউকে রহস্যটা ফাঁস করেনি এখনো সে, তাদের জানালাটা আসলে একটা রেডিও। কান পেতে থাকলে...