আমার পঁয়তাল্লিশ পেরিয়েছে। দৌড়ে দৌড়েই কেটে গেল প্রায়। কিছু না বুঝেই দৌড়েছি এতদিন। এখনও দৌড়চ্ছি, কিন্তু বোধবুদ্ধি তীক্ষ্ণ হয়েছে। আসলে বুদ্ধি ভোঁতা হয়েছে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে, তাই বোধশক্তি প্রকাশ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ততই বেশি। এখন তাই দৌড়ালেও, গতি শ্লথ করে এনেছি সচেতনভাবেই।
এখন থেকে দৌড়াদৌড়ি বন্ধ। সমস্ত বুদ্ধি খরচ করতে হবে আরাম কীভাবে ম্যাক্সিমাইজ করা যায়, তার ফন্দিফিকির করে। আরামের দিকে নজর দেওয়াই হোক জীবনের চরম লক্ষ্য। দৌড়ে কোনও লাভ হয় না। চুপ করে বসে থাকলে বরঞ্চ লোকেরা ভরসা পায়, নিজের থেকেই এসে ভিড় করে। হাওড়া ব্রিজে চুপ করে বসে থাকা জ্যোতিষীকে ঘিরে যেমন মানুষের ভিড় হয়, তেমনই।
তুমি যদি হঠাৎ বসে পড়ো, তাহলে যারা তোমার সঙ্গে দৌড়াচ্ছে, তোমায় টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তোমাকে ল্যাং মারার জন্য প্রাণ বাজি রেখেছে, তারা বেশ হতাশ হয়ে পড়ে। কিছুটা ভয়ও পেয়ে যায়। চুপ করে বসে থাকা মানুষকে কিছুতেই কেউ চুপ বসতে দেবে না।
ধুর, আমি খেলা থেকে ড্রপ-আউট করলাম। আজ থেকে শুধুই আরাম করব। প্রায়োরিটি বদলে গেছে। নাম, যশ, পদ-প্রতিপত্তি কিছুই চাই না। আরামের দিকে নজর দেওয়াই হোক জীবনের চরম লক্ষ্য।
এই তাহলে চুপটি করে বসে পড়লাম। দুনিয়া নিজের মতো বয়ে চলুক। আমার দায়িত্ব এখন মা ভবতারিণীর।
মন্তব্যসমূহ