সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ভান

প্রতি সপ্তাহে একটা মজার ব্যাপার হয় আমাদের অফিসে। সব রিপোর্টাররা পরের সপ্তাহে কি সংবাদ লিখবে, সেটা নিয়ে বসেদের সাথে প্রচুর আলোচনা করে। এক এক জন রিপোর্টারের কাহিনী নিয়ে বাকি রিপোর্টাররা প্রভূত তর্কবিতর্ক করে। জ্ঞানের আদানপ্রদান হয়। প্রতিটি পয়েন্ট সুন্দর হস্তাক্ষরে, দামি ডায়েরিতে লিখে রাখা হয়। 
তারপর সেগুলোকে টাইপ করে, দিল্লিতে প্রধান সম্পাদককে পাঠিয়ে সেগুলো নিয়ে আরেক দফা চিন্তন মনন বৈঠক হয়। 

তার পরের দিন, শনিবার, ঘর থেকে কাজ।

রোববার পেরিয়ে সোমবার আসতে আসতে আমরা সবাই বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়ি, প্রচুর ঘোরাঘুরি থাকে তো সমুদ্রের ধারে বা পাহাড় চুড়ায়। তেল কৈ, বা রেয়াজি মাটন টাও হজম করা কি কম ঝক্কির ব্যাপার। 

সোম, মঙ্গল, বুধ ... বিস্সুদ অবধি আসতে আসতে মন এবং মাথাটা কচলানো লেবুর মতো বিস্বাদ হয়ে যায়। শুক্কুরবার সকাল থেকে দিমাগকে বেশ কষ্ট দিতে হয়, অনেক পিঁয়াজি ভাজতে হয় মিটিংয়ে কি বলতে হবে সেটা ভাবার জন্য। পরের সপ্তাহের লিস্টে তো আর মমতাদির 'ক্যা ক্যা ছি ছি' দেয়া যায় না।  বেলা একটা বাজতেই আরেক রাউন্ড হৈ হট্টগোল। আমাদের সাহেব খুশি, তার সাহেবও খুশি হবে। খুশি খুশি সপ্তাহান্তে মৌজ করা যাবে। 

কি বলছেন? আগের সপ্তাহের লিষ্ট টা? কি ছিল বেশ ... ও, ওই স্টোরিটা না? আরে দূর, ওটা কি করা যায় নাকি মশাই? আমাকে কি হিন্দি ছবির হুমদো
পুলিশ, অথবা নরেন্দ্র মোদি ভেবেছেন যে একাই সব বড় বড় কাজ উৎরে দেব? ওয়ার্ক লাইফ ব্যালান্স বলে একটা ব্যাপার আছে না? তুমি বাঙাল নাকি হে?

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শুভ নববর্ষ

আজকে শুভ নববর্ষ। সকালের শুরুটা বেশ ছিল। ক্রিকেট খেললাম সাড়ে ছটা থেকে। দৌড়ে দৌড়ে অনেক রান নিলাম , একটা ক্যাচ নিয়ে ম্যাচ জেতালাম। বন্ধুদের পিঠ চাপড়ানো উপভোগ করলাম , বাবা মা , শ্বশুর শাশুড়ি কে ফোন করে নববর্ষ জানালাম। এখন বাড়ি এসে নিজের প্রিয় ম্যাক নিয়ে বসেছি। এভাবেই কেটে যাক জীবনটা , মন্দ নয়।   ওদিকে ইরান আবার ইসরাইল কে আক্রমণ করেছে। কে ভুল , কে ঠিক জানিনা। শুধু মাঝেমধ্যে মনে হয় মানুষই পারে   সুখে থাকতে ভূতের কিল খেতে। পৃথিবীটা এবার কোনদিকে ঘুরে যাবে কে জানে। অনেক যুদ্ধবাজ দেশ ওত পেতে আছে , তাদের কাছে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ার যোদ্ধারা তো শিশু।   ওদিকে আবার গিন্নির মন মেজাজ খুব খারাপ। পরীক্ষায় বাজে রেজাল্ট করে আর পড়াশোনার উচ্চকাঙ্খ পূর্ণ হবে না বলে মন তেতো করে বসে আছে। আমার কিছু করার নেই। যেটায় কিছু করতে পারব না , সেটা নিয়ে বিশেষ ভাবব না। আমি আমার মতো থাকব ঠিক করেছি। জীবনে কত কিছু জানার , দেখার , বোঝার। এভাবে মুখ লটকে থাকলে তাতে...

বঙ্কু ও তার লাথি

বঙ্কু  ও  তার  লাথি কেলিয়ে কাঁঠাল পাকায় কি করে জানিনে, তবে  বঙ্কু  একবার  একটা  উটকো  লোককে  কেলিয়ে  চাতাল  ফাটিয়েছিল  মনে  আছে। আমি  তখন  সবে  বারো  ক্লাসে খুঁড়িয়ে  খুঁড়িয়ে  উঠেছি।  বাবা  কে  বলেছিলাম  আর্টস  নিয়ে  পড়ব ।  আমার  রাশভারী  বাবা  তাতে  এমনই দুঃখিত  হলেন  যে  বাড়িতে  মুরগি  আনা  বন্ধ  করে  দিলেন।  নিজে  সেদ্ধ  খান,  আমাদেরও  রুটিন  করে  সেদ্ধ  গেলাতে  লাগলেন।  কাঁহাতক  আর  সহ্য  করা  যায়।  অগত্যা  সায়েন্স  নিয়ে  মুরগির  ফ্লও  এন্সিউর  করলাম। কিন্তু  ঝাড়টা  খেলাম  মাইক্রো  লেভেলে ।  জলের  সাথে  সালফিউরিক  অ্যাসিড  মেশালে  সেটা  কোকা-কোলা  হয়  না  ইনোর  মত  অখাদ্য  কিছু , তাতে  আমার  কোন ...

তোমাদের জন্য মেমসাহেব, সাহেব।

ইংরেজিতে লিখব না বাংলা? এই ভাবতে ভাবতেই আমার সময় কেটে গেল, লেখা আর হয়ে উঠল না। কোন কিছু শুরু করার আগে উদ্দেশ্যটা ঠিক হওয়া জরুরি। আমার প্রস্তুতি ঠিক ছিল না।  এখন ভাবছি লেখাটা জরুরি, ভাষাটা নয়। আমি যেহেতু দুটো ভাষা জানি, আমি দুটোতেই লিখব। যেটা বাংলায় লিখলে ভাল হয়, সেটা বাংলায় লিখব, যেটা ইংরেজিতে স্বাভাবিক, সেটা ইংরেজিতে লিখব। বাংলায় লিখতে পারলে সব থেকে ভাল হয়, সেটাই আমার মাতৃভাষা, কিন্তু ইংরেজি সহজতর। সেটা হয়ত আমার দুই দশকের ইংরেজি লিখে কাজ করার ফল।  আমি দুটি ভাষাতেই সাহিত্যমানের লেখা লিখতে পারব না। কিন্তু লিখতে ভালবাসি। সব  শেষে একটি ইবুক বানিয়ে আমাজনে বা গুগুলে ছেড়ে দেবো। সেটা অবশ্য এই চাকরিটা ছাড়ার পরেই সম্ভব। যখন সময় আসবে, তখন আমার লেখাগুলি এই বিশাল আন্তরজালে ঠাই পাবে। তার আগে লেখাগুলি তৈরি করা দরকার। কেউ পড়বে না হয়ত, কিন্তু আমার কন্যা শ্রাবস্তি আর ভাগ্নে প্রভেক পড়লেই যথেষ্ট। আমি যখন থাকব না, এই লেখাগুলি হয়ত ওদের একটু শান্তি দেবে। অমরত্বের ইচ্ছে আমার নেই, তবে সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে কথা বলতে পারার লোভ সংবরণ করা কঠিন।  হয়ত এই হাবিজাবি লেখাগুলি ভবিষ্যতের প্রজন্মের কেউ পড়ব...