সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হাবিজাবি



লিখিত শব্দ আসলে একটি শক্তির রূপ। এক একটি শব্দ এক একটি বিশেষ শক্তির প্রতিরূপ। তাই শব্দ চয়ন সঠিক হওয়া দরকার। নয়ত শক্তিগুলি পুঞ্জিভূত হবে না, তারা বিক্ষিপ্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়বে এদিক ওদিক। 

সেখানেই কবিদের কৃতিত্ব। কবিদের থেকে আর কেউ ভাল জানে না এক একটি শব্দের অভিনিহিত ক্ষমতা। গদ্য লেখকদের সে ক্ষমতা অনেকটাই কম, তবু, সাধারণ মানুষের থেকে অবশ্যই বেশি। তাই গদ্য লেখকদের অনেক মেহনত করে যেটা লিখতে হয়, কবিরা সেটা একটি বা দুটি ছোটো ছত্রে বুঝিয়ে দিতে পারে খুব সহজেই। 


লেখালেখি আসলে নিজের সাথে কথা বলা। তাই সেটা নিজের ভাষাতে হওয়াই কামনিয়। অন্যের ভাষা ধার করে বিখ্যাত হওয়া যায় হয়ত, ঠিক নিজের সাথে কথা বলা যায় না।  আমার বাংলা চর্চা করা হয়নি তেমনভাবে বহুকাল। লেখালেখির চর্চাও একরকম ঘুচেই গেছে অর্থনীতিক সাংবাদিকতা করে। তেমন কিছু বলারও নেই। আমি নিজের জীবনে যা দেখেছি তার বেশি কল্পনা করতে পারি না। এককালে পারতাম, কিন্তু এখন অনেকটাই ভোঁতা হয়ে গেছি। তাই ভাবছি খালি নিজের জীবনের কথাই লিখব। একটা বই লিখেছি, কিন্তু সেটা আগাপাশতলা রিরাইট করতে হবে। সে অনেক হাঙ্গামা। কুঁড়েমি তো আছেই। তাছাড়া আছে "impostor syndrome"।  এই কথাটি সেদিন নতুন শিখলাম। না, এটার মানে লেখককে ভেকধারী বলা নয়। এটা হল সেই শত্রু যে মাথার পেছনে বলতে থাকে কি হবে লিখে, কে পড়বে? আমারটা কি আবার সাহিত্য নাকি? ছ্যাঃ। 


এটা সব সাহিত্যিকের খেত্রেই হয় শুনেছি। তবু লিখে যেতে হয়। সব থেকে ভাল হয় লেখাটা যদি নিজের তাগিদে লেখা হয় নিজেকেই খুশি করার জন্য। এতে প্রাণে অনেক আরাম পাওয়া যায়। 


আমি এখন থেকে বাংলাতেই লিখব।         

(আচ্ছা, আগে থেকে বলে রাখলুম, এই হাবিজাবি লেখা টা কিন্তু আমার বেড়েই চলবে। চোদ্দটা পোস্ট করার থেকে একটা পোস্টেই যত ঘ্যানঘ্যানানি ধরে রাখা ভাল।) 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শুভ নববর্ষ

আজকে শুভ নববর্ষ। সকালের শুরুটা বেশ ছিল। ক্রিকেট খেললাম সাড়ে ছটা থেকে। দৌড়ে দৌড়ে অনেক রান নিলাম , একটা ক্যাচ নিয়ে ম্যাচ জেতালাম। বন্ধুদের পিঠ চাপড়ানো উপভোগ করলাম , বাবা মা , শ্বশুর শাশুড়ি কে ফোন করে নববর্ষ জানালাম। এখন বাড়ি এসে নিজের প্রিয় ম্যাক নিয়ে বসেছি। এভাবেই কেটে যাক জীবনটা , মন্দ নয়।   ওদিকে ইরান আবার ইসরাইল কে আক্রমণ করেছে। কে ভুল , কে ঠিক জানিনা। শুধু মাঝেমধ্যে মনে হয় মানুষই পারে   সুখে থাকতে ভূতের কিল খেতে। পৃথিবীটা এবার কোনদিকে ঘুরে যাবে কে জানে। অনেক যুদ্ধবাজ দেশ ওত পেতে আছে , তাদের কাছে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ার যোদ্ধারা তো শিশু।   ওদিকে আবার গিন্নির মন মেজাজ খুব খারাপ। পরীক্ষায় বাজে রেজাল্ট করে আর পড়াশোনার উচ্চকাঙ্খ পূর্ণ হবে না বলে মন তেতো করে বসে আছে। আমার কিছু করার নেই। যেটায় কিছু করতে পারব না , সেটা নিয়ে বিশেষ ভাবব না। আমি আমার মতো থাকব ঠিক করেছি। জীবনে কত কিছু জানার , দেখার , বোঝার। এভাবে মুখ লটকে থাকলে তাতে...

তোমাদের জন্য মেমসাহেব, সাহেব।

ইংরেজিতে লিখব না বাংলা? এই ভাবতে ভাবতেই আমার সময় কেটে গেল, লেখা আর হয়ে উঠল না। কোন কিছু শুরু করার আগে উদ্দেশ্যটা ঠিক হওয়া জরুরি। আমার প্রস্তুতি ঠিক ছিল না।  এখন ভাবছি লেখাটা জরুরি, ভাষাটা নয়। আমি যেহেতু দুটো ভাষা জানি, আমি দুটোতেই লিখব। যেটা বাংলায় লিখলে ভাল হয়, সেটা বাংলায় লিখব, যেটা ইংরেজিতে স্বাভাবিক, সেটা ইংরেজিতে লিখব। বাংলায় লিখতে পারলে সব থেকে ভাল হয়, সেটাই আমার মাতৃভাষা, কিন্তু ইংরেজি সহজতর। সেটা হয়ত আমার দুই দশকের ইংরেজি লিখে কাজ করার ফল।  আমি দুটি ভাষাতেই সাহিত্যমানের লেখা লিখতে পারব না। কিন্তু লিখতে ভালবাসি। সব  শেষে একটি ইবুক বানিয়ে আমাজনে বা গুগুলে ছেড়ে দেবো। সেটা অবশ্য এই চাকরিটা ছাড়ার পরেই সম্ভব। যখন সময় আসবে, তখন আমার লেখাগুলি এই বিশাল আন্তরজালে ঠাই পাবে। তার আগে লেখাগুলি তৈরি করা দরকার। কেউ পড়বে না হয়ত, কিন্তু আমার কন্যা শ্রাবস্তি আর ভাগ্নে প্রভেক পড়লেই যথেষ্ট। আমি যখন থাকব না, এই লেখাগুলি হয়ত ওদের একটু শান্তি দেবে। অমরত্বের ইচ্ছে আমার নেই, তবে সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে কথা বলতে পারার লোভ সংবরণ করা কঠিন।  হয়ত এই হাবিজাবি লেখাগুলি ভবিষ্যতের প্রজন্মের কেউ পড়ব...

বাংলা ও বাঙালি

বাংলায় লিখবো কি লিখবো না, পারব কিনা, এসব ভাবতে ভাবতে ইংরেজিতে লেখা শুরু করলাম। তখনই এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে গেল।  শ্রী নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী মহাশয়ের ইউটিউব চ্যানেলে বাঙালি ও বাংলা ভাষার সংকট নিয়ে একটি লেকচার শুনলাম। কত মানুষের সাধনা ও সংগ্রামের ফল আমাদের এই বাংলা ভাষা। আমার মনে একটি দ্বন্দ্ব চলে আসছিল, আমার ভাষা বোধকরি সাহিত্য-উপযোগী নয়। তাহলে সাহিত্য সৃষ্টি করব কী করে। ওনার বক্তৃতা শুনে বুঝলাম এটি আমার মনের অযথা বাধা, এতে কোনও সার নেই। এই স্বরোপিত বাধা শুধু মায়ার খেলা। কত মানুষের কত রকম বাংলা। আজ যে ভাষায় লিখছি বা কথা বলছি, সেটিই কি খাঁটি? আমি যে ভাষায় লিখব সেটিই আমার ভাষা। এত ভাববার কি আছে। তাই, আমার জানা ভাষাতেই আমি আমার মতো করে সাহিত্য রচনা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। সবটাই হাতে লিখবো আগে। পরে টাইপ করে নেওয়া যাবে, যেমন এখন করছি। আর হ্যাঁ, নিজের ভাষায় লিখছি, নিজের সাথে কথা বলার মতো করেই। সেখানে তাড়াহুড়ো চলবে না। যখন ইচ্ছে হবে লিখব, ইচ্ছে না হলে লিখব না। তবে লেখা থামাবো না। লেখটা শুরু করেছিলাম একটি অদ্ভুত ব্যাপার ঘটেছে বলে। সেটায় আসা  যাক। ভাদুড়ী মশাই তার...