আমার লেখালেখি করার কথা নয়, কেউ সেটা পড়বে তারও কোনো আশা নেই। কাউকে পড়াতেও চাই না, হাবিজাবি সব কিছু। কী হবে, আমার লেখায় তেমন কিছু পাওয়ার নয়। তবে লিখতে ভালো লাগে। এভাবে নিজের সঙ্গে কথা বলা যায়। যারা সেটা বুঝতে পারে, তারা লেখে।
লেখক কি কেবল পাঠকের কথা ভেবে লেখে? না। লেখক বেশিরভাগ সময়েই নিজের সঙ্গে কথা বলার জন্যই লেখালেখি করে। কোথাও একটা পড়েছিলাম, লেখক একটা ভালো বই পড়ার জন্য লেখে। কথাটার অর্থ, লেখক আসলে লেখক হওয়ার থেকেও বেশি খুশি পাঠক হয়ে।
সব লেখকই পাঠক। একটা ভালো বই পড়ার ইচ্ছে সবার মধ্যেই থাকে। সে বইকে হাতে করে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর কামনা, যেমন আমি করতাম ছোটবেলায় শিবরাম চক্রবর্তীর বই হাতে নিয়ে, তা সবার মধ্যেই থাকে। মানুষ মাত্রই আত্মার রসদ জোগাতে ব্যস্ত। সেটার জন্য তাকে নিজেই কলম তুলে নিতে হয় হাতে।
নিজের মতো একটা গল্প পড়ব বলেই আমার উপন্যাসটা শুরু করেছিলাম, কিন্তু কিছুতেই শেষ করতে পারছি না। লিখছি প্রচুর, কিন্তু গল্পটি আর লেখা হচ্ছে না। তার কারণ কী আমি জানি না। হয়তো কিছু লিখতে গেলে প্রচুর বুদ্ধি লাগে, একাগ্রতার প্রয়োজন হয়, ও ইমোশনাল ইনভেস্টমেন্ট লাগে। সেটা জোগাড় করা কঠিন একটি ব্যাপার। লেখার পর নিজেকে শূন্য মনে হয়। সেই শূন্যতার অভ্যাস আমার নেই। তার জন্য যে একাগ্রতা দরকার, যে অন্য জগতে পৌঁছে যাওয়ার সাহস দরকার, যে মৃত্যুর স্বাদ আহরণ করতে হয়, তার কোনটার জন্যই আমি প্রস্তুত নই। তার থেকে এরকম এলোমেলো লিখলে কোনো খাটনি নেই।
কেন লিখব? লেখার কী প্রয়োজন? আমি না লিখলেই বা কী ক্ষতি-বৃদ্ধি হবে জগতের? তাছাড়া আমার নিজের ভাষা এখনও বোধহয় খুঁজে পাইনি। তাই হাবিজাবি লিখে সেই ভাষা খুঁজে বের করে নিতে হবে আগে। কোনো এক মনীষী বলেছেন, কিছু লেখার আগে দশ হাজার ঘণ্টার প্র্যাকটিস দরকার। কথাটা সত্যি। আবার হারুকি মুরাকামির মতো কিছু মানুষ আছেন, যারা উড়ন্ত বেসবল দেখে ঠিক করেন তিনি লেখক হবেন। অনেকটা জেন পাওয়ার মতো। তাদের সঙ্গে আমার তুলনা হয় না।
আমার মনে হয়, মুরাকামির মতো মানুষেরা নিজেদের জন্য লেখেন। একটি ভালো উপন্যাস পড়ার জন্য লেখেন। তাদের লেখা তাই অন্যদের ভালো লাগে। ইউনিভার্সাল ইজ পার্সোনাল বলে একটি কথা আছে।
যাক, এই আবোলতাবোল লেখার কোনো উদ্দেশ্য তেমন ছিল না। শুধুমাত্র এই ব্লগটিতে অনেকদিন কিছু লেখা হয়নি, তাই মনে হল একটু কিছু লিখি। বাংলা লেখাটাও প্র্যাকটিস করা হচ্ছে না তেমনভাবে। তাই মাঝেমধ্যে লেখালেখির প্রয়োজন।
আমি লিখছি ঠিকই, এরকমই আবোলতাবোল অনেক কিছু। কিন্তু খাতায়-কলমে। তাকে টাইপ করার হাঙ্গামা প্রচুর। তার থেকে এভাবে নিজের খেয়ালে কম্পিউটারে টাইপ করার মধ্যেও আনন্দ আছে। আমার এই লেখাটি কেউ কোনোদিন পড়বে না, আমিও পড়ব না। কিন্তু এই যে টাইপ করার সময় নিজের সঙ্গে কথা বলার একটু সুযোগ পেলাম, এই যথেষ্ট। নিজের সঙ্গেই কথা বলা হয় না কোনোদিন। বিচিত্র আমাদের জীবন, সেলুকাস।
আজকে শুভ নববর্ষ। সকালের শুরুটা বেশ ছিল। ক্রিকেট খেললাম সাড়ে ছটা থেকে। দৌড়ে দৌড়ে অনেক রান নিলাম , একটা ক্যাচ নিয়ে ম্যাচ জেতালাম। বন্ধুদের পিঠ চাপড়ানো উপভোগ করলাম , বাবা মা , শ্বশুর শাশুড়ি কে ফোন করে নববর্ষ জানালাম। এখন বাড়ি এসে নিজের প্রিয় ম্যাক নিয়ে বসেছি। এভাবেই কেটে যাক জীবনটা , মন্দ নয়। ওদিকে ইরান আবার ইসরাইল কে আক্রমণ করেছে। কে ভুল , কে ঠিক জানিনা। শুধু মাঝেমধ্যে মনে হয় মানুষই পারে সুখে থাকতে ভূতের কিল খেতে। পৃথিবীটা এবার কোনদিকে ঘুরে যাবে কে জানে। অনেক যুদ্ধবাজ দেশ ওত পেতে আছে , তাদের কাছে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ার যোদ্ধারা তো শিশু। ওদিকে আবার গিন্নির মন মেজাজ খুব খারাপ। পরীক্ষায় বাজে রেজাল্ট করে আর পড়াশোনার উচ্চকাঙ্খ পূর্ণ হবে না বলে মন তেতো করে বসে আছে। আমার কিছু করার নেই। যেটায় কিছু করতে পারব না , সেটা নিয়ে বিশেষ ভাবব না। আমি আমার মতো থাকব ঠিক করেছি। জীবনে কত কিছু জানার , দেখার , বোঝার। এভাবে মুখ লটকে থাকলে তাতে...
মন্তব্যসমূহ